Ridge Bangla

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রাজপথে নামার ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতের আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টি প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনইইটি, এসএসসি, সিবিএসইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফল সংক্রান্ত ত্রুটির অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি।

সংগঠনটির দাবি, এসব অনিয়মে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে আগামী শনিবার (৬ জুন) রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য ও সাংবাদিক সৌরভ দাস বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি হলো ব্যবস্থার মধ্যে জবাবদিহি থাকা উচিত। আট লাখ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছেন। কিন্তু তাদের তরফ থেকে একটি কথাও বলা হয়নি। মাত্র দুজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, যাকে শাস্তি বলা যায় না। তাদের সাসপেন্ডও করা হয়নি। আমরা পুরো ব্যবস্থার কাছে জবাবদিহি চাই। সারা দেশে যে সমর্থন আমরা পাচ্ছি, তা আপনারা দেখেছেন।’

সংগঠনটি জানিয়েছে, ৬ জুন দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করা হবে। এতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি রাজধানীর জনতর মন্তরে প্রতিবাদ আয়োজনের অনুমতিও চাওয়া হবে। কর্মসূচিতে সব দলের মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির তিন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যাকিন্সে কর্মী ও আম আদমি পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

৬ জুনের কর্মসূচি হবে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম সংগঠিত রাজপথের প্রতিবাদ। এ বিষয়ে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন। আমরা অনুমতি চাইব। আমরা দিল্লি পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি- এই বিষয়ে একটা টুইট করার অনুমতি দিন। তারা এখানে বড় মনের পরিচয় দিক।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা শুরু হয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের একাংশকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এরপর অভিজিৎ দীপকে নামে এক তরুণ ককরোচ জনতা পার্টি গঠনের ঘোষণা দেন।

পরবর্তীতে এটি তরুণদের মধ্যে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। এখনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হলেও সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রায় দ্বিগুণ।

এরই মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টি একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছিল। তবে চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তেলাপোকা দেখে তাদের এত ভয় কেন?’

This post was viewed: 11

আরো পড়ুন