দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের অবৈধ পুশইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি জানায়, ঝিনাইদহে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল বাধা দেয়। পরে বিজিবির অবস্থানের মুখে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
এ ছাড়া মহেশপুরের সামন্তা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে বিএসএফ তাদের আবার ভ্যানে তুলে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে রাখা হয়েছিল বলে জানায় খুলনা ব্যাটালিয়ন। বিজিবির প্রতিরোধমূলক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের সরিয়ে নেয়।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ভেতরে প্রায় ১০ জনকে পুশইনের জন্য প্রস্তুত রাখার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের কাছের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া চার মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহলদল দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। তবে এ বিষয়ে বিএসএফ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করেনি।
পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ একজনকে পুশইন করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবিকে জানায়। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক এলাকায় স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের উদ্দেশ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
অন্যদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রচলিত আইন ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বাইরে যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।