ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেই কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিম।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের বড় পরাজয়ের পর তৃণমূলের ভেতরে বিদ্রোহ ও ভাঙনের আলোচনা চলার মধ্যেই তার এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। একই দিনে দলটির ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান ফিরহাদ হাকিম। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে তার এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
৬৭ বছর বয়সী ফিরহাদ হাকিমের জায়গায় কে নতুন দায়িত্ব নেবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তৃণমূলের প্রভাবশালী এই নেতা এর আগেও মেয়রের দায়িত্ব ছাড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন জটিলতার কথা জানিয়ে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তখন তাকে (ফিরহাদ হাকিম) পদত্যাগ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু আজ তিনি আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সরে দাঁড়ানোর অনুমতি চান এবং এবার তিনি সম্মতি দিয়েছেন।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ফিরহাদ হাকিম ২০১৮ সাল থেকে কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত মাসে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের দপ্তরে একটি চিঠি পাঠান।
ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে বিধানসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।