গ্রীষ্মকাল কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেকেই আবার ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ চালু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি ভুলই দীর্ঘমেয়াদে ফ্রিজের কম্প্রেসারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা বলছেন, লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজ চালু করা ঠিক নয়। এতে ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা যন্ত্রটির আয়ু কমিয়ে দেয় এবং ব্যয়বহুল মেরামতের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফ্রিজ বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। খাবার সংরক্ষণ, ওষুধ রাখা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সঠিকভাবে পরিচালনা না করলে এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরে এলে প্রথম কয়েক মিনিটে ভোল্টেজ স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে। এ সময় সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই কিছুটা সময় অপেক্ষা করাই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর ফ্রিজ চালু করা উচিত। এতে ভোল্টেজ স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ পায় এবং কম্প্রেসার নিরাপদ থাকে। যেসব এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়-আসে, সেখানে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজের দরজা অযথা খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় বজায় থাকে এবং খাবার নিরাপদ থাকে। বারবার ফ্রিজ অন-অফ করাও ক্ষতিকর, কারণ এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। প্রয়োজনে সেটিং পুনরায় ঠিক করে নিতে হবে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত খাবারের অবস্থাও যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। খাবারে অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা গেলে তা ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, শুধু ভালো মানের ফ্রিজ কিনলেই হবে না, সঠিক ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। লোডশেডিংয়ের পর সামান্য সতর্কতা ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।