Skip to main content

Ridge Bangla

পাকিস্তান-ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা, অনীহা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা আয়োজনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। তবে তেহরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি, আলোচনার বিষয়ে তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ যুদ্ধবিরতিকে চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছেন। তবে ইরানের পূর্বশর্ত হলো আগে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, নতুবা তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।

শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রেড জোনসহ কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি মার্কিন সি-১৭ গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজ পাকিস্তানে অবতরণ করেছে। এছাড়া নিরাপত্তা দল ও সাঁজোয়া যানসহ মার্কিন আগাম প্রতিনিধি দলও সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনায় বসার বিষয়টি এখন জটিল হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আছে আর মাত্র দুদিন। একদিকে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে মার্কিন কৌশলগত তৎপরতা- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দূর না হলে আলোচনার টেবিলে সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

This post was viewed: 33

আরো পড়ুন