তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অক্টোবর মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটি। নিহতদের মধ্যে শিশু ও জরুরি সেবাকর্মীও রয়েছেন।
চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েও আছে। গাজা শহরের তুফ্ফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। এছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় এলাকায় স্থাপিত আরেকটি তাঁবু শিবিরে বিমান হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের একজন ছিলেন জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরি। সংস্থাটি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষার আহ্বান জানায়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা শহরে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি গাজার মানুষের জন্য বাস্তবে কোনো স্বস্তি আনেনি। সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে ড্রোন ও সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের এক রিজার্ভ কর্মকর্তার আহত হওয়ার পর সাঁজোয়া ও বিমান হামলা চালানো হয়। চিকিৎসা সূত্র জানায়, যুদ্ধবিরতির পর চার মাসে ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জনে।