Ridge Bangla

অবৈধ অস্ত্রের দাপটে অশান্ত পাড়া-মহল্লা, দেশজুড়ে বাড়ছে টার্গেট কিলিং

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ বেড়েছে টার্গেট কিলিং। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একের পর এক সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধিপত্য বিস্তার, আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিচ্ছিন্ন গ্রুপগুলোর দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যক্তিগত শত্রুতাই এসব সহিংসতার মূল কারণ।

তবে দেশে সাম্প্রতিক সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থাও যে এসব সহিংসতার পেছনে দায়ী, সে কথাও বলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে।

পুলিশের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, দেশের বাইরে অবস্থান করা কিছু অপরাধ চক্রের শীর্ষ নেতারা নানা সহিংসতায় প্রত্যক্ষ মদদ ও নির্দেশনা দিচ্ছে। চলতি নভেম্বর মাসে ঘটা উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার দিকে তাকালেই এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজধানীর পল্লবীতে গত সোমবার শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার দিন পুরো রাজধানী নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকার পরেও যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেল যোগে এসে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। ওই একই দিন লক্ষ্মীপুরে বিএনপি সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর আগে ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১০ সেকেন্ডের এই কিলিং মিশনের পর কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা রয়েছেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

১১ নভেম্বর রাজধানীর চন্দ্রিমা মডেল টাউন থেকে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট এক নেতার হাত–পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন গুলশান এলাকায় আরেক ছাত্রদল নেতা সৌরভকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১৩ নভেম্বর জাতীয় ঈদগাহের কাছে একটি ড্রাম থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুলের ২৬ খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি কর্তৃক ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে চলমান বিএনপির নির্বাচনি জনসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয় সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নামে এক সন্ত্রাসীকে। ওই সময় চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ আরো বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অশান্তির সুযোগে টার্গেট কিলিং বেড়েছে। তারা মনে করেন, অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং জামিনে থাকা চিহ্নিত আসামিদের নজরদারিতে না আনলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, যেকোনো অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

This post was viewed: 33

আরো পড়ুন