Ridge Bangla

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা ও মারধর, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম ফিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মারধর ও চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ২৬ বছর বয়সী স্পিনার নাঈম হাসান। গত শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় তিনি বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। লালখানবাজার এলাকায় পুলিশ তাঁর গাড়ি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র চেক করার সময় নাঈম নিজেই তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করতে বলেন।

কিন্তু আচমকা পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি (নিজেকে ডিবির সোর্স পরিচয় দেন) এবং দুজন পুলিশ সদস্য তাঁর গলা চেপে ধরে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা পাইপ ও লাঠি দিয়ে নাঈমকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ তিনি যে জাতীয় দলের ক্রিকেটার তা নিশ্চিত করার পরও তারা মারধর থামাননি।

পরবর্তীতে নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মোবাইল ফোনে দ্রুত বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তামিম ইকবাল তাৎক্ষণিক থানার ওসি ও নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

বর্তমানে আহত এই ক্রিকেটার চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, মূলত একটি চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযানে গিয়েছিল। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়মে হয়েছে কি না এবং মারধরের ঘটনাটি কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নাঈমের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদরাও।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন