Ridge Bangla

বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি পেল না নেপাল, নেপথ্যে ভারত

ভারতের অনুমোদন না পাওয়ায় আপাতত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি এখনো অনুমোদন দেয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে আগের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করবে নেপাল।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি আটকে আছে। এ ছাড়া সংশোধিত বা নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তসহ কয়েকটি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

বর্ষা মৌসুমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে নেপাল। তবে শীত মৌসুমে দেশটি আবার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নেপাল-ভারত জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াট ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়েছিল।

এরপর নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডের কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। তবে পরে জানানো হয়, ১ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ভারত-বাংলাদেশ সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য জায়গা নেই।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা বলেন, ‘এবার বাংলাদেশে শুধু ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য এখনো ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তবে আগের ৪০ মেগাওয়াট ব্যবস্থার মতোই আমরা ভারতের সিইএর কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু জানানো হয়েছে, সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের সক্ষমতা নেই।’

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য নেপাল-ভারত জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি এবং সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আরও আলোচনা হবে। তবে বৈঠকের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির বৈঠকে ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি, এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়।

২০২৪ সালের ২ অক্টোবর নেপাল ও বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন তিন পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট রপ্তানির জন্য আবারও নেপাল-ভারত বৈঠকে আলোচনা করতে হবে। এরপর ভারতের অনুমোদন ও নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োজন হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বেড়ে ৬০ মেগাওয়াট হবে।

নেপাল প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে ১২ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। দেশটির বিদ্যুৎ ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। এরপর বাহারামপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে পাঠানো ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য একই প্রকল্প ব্যবহার করলেও ভারতের আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বিক্রি করছে নেপাল। অতিরিক্ত বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই দাম কার্যকর থাকার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে নেপাল। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দুই দেশে বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটির আয় হয়েছে ২০ দশমিক ৯৯৫২ বিলিয়ন রুপি, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ১০৩৩ বিলিয়ন রুপি।

This post was viewed: 8

আরো পড়ুন