২০২৬ সালকে ঘিরে হলিউড যেন এক গভীর আত্মসংলাপে নামছে। এটি শুধু নতুন ছবির বছর নয়, বরং অতীতের নস্টালজিয়া ও ভবিষ্যতের কল্পনার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সময়। বছরের শুরুতে ‘২৮ ইয়ারস লেটার: দ্য ব্রোন টেম্পল’ সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে মানুষের ভেতরের ভয়, বিকৃতি ও টিকে থাকার লড়াইকে তুলে ধরবে। ফেব্রুয়ারিতে সেই অন্ধকার বদলে যাবে তীব্র প্রেম ও সামাজিক সংঘাতে এমারাল্ড ফেনেলের ‘উইদারিং হাইটস’। নতুন প্রজন্মের কাছে ভালোবাসাকে হাজির করবে সাহসী ও বিতর্কিত রূপে। বসন্তে আবার দৃষ্টি যাবে মহাকাশের দিকে। ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’-তে রায়ান গসলিংয়ের স্মৃতিভ্রষ্ট অভিযাত্রা বিজ্ঞান ও মানবিক আবেগকে মিলিয়ে পৃথিবী বাঁচানোর এক অন্তরঙ্গ গল্প বলবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল এমন এক বছর, যেখানে হলিউড শুধু বিনোদন দেবে না। নিজের দিকেই ফিরে তাকাবে, প্রশ্ন করবে, আর নতুন পথে এগোনোর ইঙ্গিত দেবে।
এপ্রিল শুরু হবে সম্পর্কের ভাঙন ও মানসিক অস্থিরতার বাস্তব রূপ নিয়ে ‘দ্য ড্রামা’। প্রেমকে রূপকথা নয়, বরং কঠিন সত্য হিসেবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ‘রেডি অর নট ২’ হরর ও ব্যঙ্গের মিশেলে মানবিক নিষ্ঠুরতাকে আরও একবার উন্মোচন করবে। এরপর মে মাসে বড় পর্দায় আসবে কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘মাইকেল’, যেখানে তাঁর উত্থানের পাশাপাশি বিতর্ক, নিঃসঙ্গতা ও অতুলনীয় প্রতিভার মানবিক গল্প দর্শকদের নাড়া দেবে।
মে মাসেই ফ্যাশন ও মিডিয়ার বদলে যাওয়া সময়কে ধরবে ‘দ্য ডেভিল ওয়েয়ার্স প্রাডা টু’। ক্ষমতা, প্রিন্ট সাংবাদিকতার পতন আর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিরান্ডা প্রিস্টলির লড়াইয়ের দলিল হয়ে উঠবে ছবিটি। গ্রীষ্মের শুরুতে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ ওটিটি ছাড়িয়ে প্রেক্ষাগৃহে এনে দেবে স্টার ওয়ার্সের মহাকাব্যিক বিস্তার। আর ‘টয় স্টোরি ৫’ স্মরণ করিয়ে দেবে, ডিজিটাল যুগের মাঝেও স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর অস্তিত্বের সংকট কতটা মানবিক।
২০২৬ সাল হলিউডের জন্য শুধু আরেকটি মুক্তির বছর নয়, এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে গল্প বলার ভাষা বদলে দেওয়ার এক সন্ধিক্ষণ। বছরের মাঝামাঝি নতুন ডিসি ইউনিভার্সের যাত্রা শুরু হবে ‘সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমোরো’ দিয়ে, যা শক্ত অবস্থান জানান দেবে নতুন এক মহাবিশ্বের। জুলাইয়ে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ (ওসিডি) হোমারের মহাকাব্যকে রূপ দেবে মানুষের আত্মসংঘাত ও অস্তিত্বের গভীর প্রতীকে। একই মাসে ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ পিটার পার্কারকে ফিরিয়ে আনবে সাধারণ মানুষের বাস্তবতায়। সুপারহিরো হলেও সে যে আমাদেরই একজন!
শরতে মুক্তি পাবে ‘দ্য সোশাল রেকনিং’, যেখানে প্রযুক্তি, সামাজিক মাধ্যম ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং সমকালীন রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা। আর বছরের শেষে ডিসেম্বর এনে দেবে অভূতপূর্ব এক মুহূর্ত। একই দিনে মুক্তি পাবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘ডুন: পার্ট থ্রি’। একদিকে মাল্টিভার্সে সুপারহিরোদের চূড়ান্ত যুদ্ধ, অন্যদিকে পল অ্যাট্রেইডিসের ক্ষমতার ভয়ংকর পরিণতি। এ যেন শুধু বক্স অফিসের লড়াই নয়, দুই ভিন্ন গল্প বলার দর্শনের মুখোমুখি সংঘর্ষ।
সব মিলিয়ে ২০২৬ এমন এক বছর, যখন হলিউড কেবল দর্শককে হলে টানবে না, বরং নিজেকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। আর সেই রূপান্তরের ইতিহাসের সাক্ষী হবে পুরো বিশ্ব।