Ridge Bangla

১৪ জেলায় বজ্রপাতের আশঙ্কা, সতর্ক থাকার পরামর্শ

দেশের ১৪ জেলার কয়েকটি এলাকায় সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাত, বজ্রবৃষ্টি ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম।

সোমবার সংস্থাটি জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে ঘরের বাইরে না যাওয়াসহ খোলা স্থানে অবস্থান এবং ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

রাইমসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর ১টার মধ্যে বগুড়া, নওগাঁ, জামালপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর জেলার কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত, বজ্রবৃষ্টি বা বৃষ্টি হতে পারে। দুপুর ২টার মধ্যে শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও যশোর জেলার কিছু স্থানে একই ধরনের আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিকেল ৪টার মধ্যে নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও পাবনা জেলার কিছু এলাকায় বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রাইমসের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ গোলাম রাব্বানী বলেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে কোনো স্থানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। শেষবার বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরে অবস্থান করা উচিত। আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রধ্বনি শোনা মাত্র ধান কাটা, মাছ ধরা, খেলাধুলাসহ খোলা জায়গার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।

নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে দলবদ্ধভাবে না থেকে ছড়িয়ে অবস্থান করতে হবে। বাড়ির উঠানে থাকা, আম বা শিলা কুড়াতে যাওয়া, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, উঁচু স্থানে কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছেঁড়া বিদ্যুতের তারের আশপাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘরের ভেতরে থাকলেও ছাদ, দরজা-জানালা বা জানালার গ্রিল স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং বাথরুমের কল, রান্নাঘরের সিঙ্ক, লোহার পাইপ, চার্জে থাকা মোবাইল ফোন, তারযুক্ত টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগে থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাইমস আরও জানিয়েছে, বজ্রপাতের সময় তাবু, চারদিক খোলা আশ্রয়কেন্দ্র বা ধাতব কাঠামোর ছাউনির নিচে অবস্থান নিরাপদ নয়। জলাশয়ে থাকা বা মাছ ধরা থেকেও বিরত থাকতে হবে। নৌকায় অবস্থান করলে ছইয়ের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস সচল করার জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন