যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইল এলাকাটি ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের জন্য সুপরিচিত। এখন হাটের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে গড়ে উঠেছে ‘গরুর হোটেল’ বা খাটাল নামক ব্যতিক্রমী ও লাভজনক এক ব্যবসা।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ লাঘব ও পরিবহন খরচ কমাতে নেওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে সাতমাইল এলাকার আশপাশে প্রায় ৭০টি গরুর হোটেল বা খাটাল সচল রয়েছে।
হাটে আসা ব্যবসায়ীরা তাদের পশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এই সেবা গ্রহণ করেন। হোটেলের ভাড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয় গরুর আকার এবং সেখানে অবস্থানের সময়ের ওপর ভিত্তি করে।
প্রতিদিন বড় গরুর জন্য ২০০ টাকা, মাঝারি গরুর জন্য ১৫০ টাকা এবং ছোট গরুর জন্য ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া অল্প সময়ের জন্য গরু রাখলে মাথাপিছু মাত্র ৩০ টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা এখন শুধু পশু রাখার জায়গাই নয়, বরং উন্নত সেবাও নিশ্চিত করছেন প্রতিটি হোটেলে।
খড় বা বিচালি দ্রুত কাটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক বৈদ্যুতিক মেশিন। প্রতিটি হোটেলে গরুর খাওয়ার জন্য অন্তত ৩০টি করে বিশেষ পাত্র (নান্দা) রাখা হয়েছে, যা পশুর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করে।