জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরব হয়ে উঠেছেন তিন প্রধান দলের শতাধিক নেত্রী। সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন এই আসন বণ্টন ও মনোনয়ন নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আগেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৬টি সাধারণ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২১১টি, জামায়াত ৬৮টি এবং এনসিপি ছয়টি আসন। অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসন পেয়েছে।
আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেতে পারে ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি আসন। একটি আসন পেতে সংসদে ন্যূনতম ছয়জন সদস্য প্রয়োজন হওয়ায় এনসিপির ভাগে আপাতত একটি আসন নিশ্চিত, তবে জোট সমঝোতায় সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিএনপিতে অর্ধশতাধিক নেত্রী মনোনয়নের আশায় সক্রিয় হয়েছেন। রাজপথের আন্দোলন, নির্যাতন সহ্য করা ও সংগঠনে অবদান রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতেও দুই ডজনের বেশি নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন। এনসিপিতেও কয়েকজন নেত্রীর নাম ঘুরছে দলীয় অন্দরমহলে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হয় না। সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই ভোটার। দল বা জোট একক প্রার্থী দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে।