র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর হামলা, আটকে রেখে নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কুখ্যাত ডাকাত হিসেবে পরিচিত শফিককে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৩ জুলাই) র্যাব-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকার একটি বাসা থেকে শফিককে গ্রেফতার করা হয়। একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
র্যাব জানায়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগরের খাগাতুয়া গ্রামে গেলে শফিকের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি র্যাবের চার গোয়েন্দা সদস্যের ওপর হামলা চালায়। পরে তাদের প্রায় ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। এতে র্যাবের ৩ সদস্য গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও শফিক এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলার পর শফিক ও তার সহযোগীরা স্থানীয় একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। র্যাব সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর খবর পেয়ে তারা গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আটকে রেখে মারধর করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
র্যাবের কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী জানান, শফিকের বিরুদ্ধে নবীনগরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে রতনপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী সহিংসতায় মাসুদ মিয়া হত্যা মামলাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।