রাজশাহীতে হাসিনা খাতুন (২১) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কীটনাশক পান করার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী ও তার স্বজনরা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসিনার মৃত্যু হয়। তিনি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আন্দারদিঘি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় সাত মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার মাদকসেবী স্বামী মাদক ব্যবসার জন্য টাকা চেয়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হাসিনা গত সোমবার রাতে বিষপান করেন।
প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর হাসপাতালেই হাসিনার শরীর থেকে গয়না খুলে নেওয়া হয়। এরপর হাসিনার স্বামী রাতুল, বোন লাইলা খাতুন ও সঙ্গে থাকা বন্ধুরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, হাসিনার বোন মেহেরুন্নেসা ওই ঘটনায় বুধবার থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।