মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ করতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন পোল্যান্ডপ্রবাসী ওয়াসিম মুন্সি। বিদেশে ব্যবসায় সফল হওয়ার পর দেশে ফিরে তিনি শুক্রবার দুপুরে সড়কপথের পরিবর্তে হেলিকপ্টারে মাকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নন্দিরচর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দিরচর গ্রামের কাদের মুন্সির ছেলে ওয়াসিম মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রবাসে থাকলেও মায়ের বহুদিনের একটি ইচ্ছার কথা তিনি মনে রেখেছিলেন। দেশে ফিরে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ওয়াসিম মুন্সি মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। হেলিকপ্টারটি গ্রামের আকাশে দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। নন্দিরচর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ এই দৃশ্য দেখতে সেখানে ছুটে আসেন।
হেলিকপ্টারটি অবতরণের পর পুরো এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল মায়ের মুখে ফুটে ওঠা তৃপ্তির হাসি। সন্তানের এমন উদ্যোগে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
মায়ের পাশাপাশি বাবা কাদের মুন্সি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়েও গ্রামের বাড়িতে আসেন ওয়াসিম মুন্সি। তার এই উদ্যোগে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদেশে গিয়ে অনেকেই সফলতা অর্জন করেন, তবে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে এভাবে উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাদের মতে, ওয়াসিম মুন্সির এই আয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধ ও মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বিদেশে থেকে অনেকেই সফল হন, কিন্তু মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে দেখেন খুব কম মানুষ। ওয়াসিমের এই উদ্যোগ আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণার।”
আরেক গ্রামবাসী বলেন, “হেলিকপ্টারে মানুষ গ্রামে আসতে দেখেছি, কিন্তু শুধুমাত্র মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এমন আয়োজন সত্যিই বিরল। এটি আমাদের সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”