বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্যও আরও প্রকট হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে নতুন করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ধনকুবেরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে মোট ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১০.৮ শতাংশ, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউবিএস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিকদের ধনকুবের হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত বছর প্রতিদিন গড়ে ২,৬০০ জনের বেশি মানুষ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। নতুন ধনকুবেরদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
তবে সম্পদ বৃদ্ধির এই চিত্রের বিপরীতে অধিকাংশ দেশে মধ্যক সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ইউবিএসের ভাষ্য, মধ্যক সম্পদ সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার তুলনামূলক নির্ভুল চিত্র তুলে ধরে, কারণ এতে অতি ধনীদের সম্পদের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ধনকুবেরদের বড় অংশের সম্পদ বৃদ্ধির মূল কারণ আবাসন সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি। অর্থাৎ, বাড়ির বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকেই ধনকুবেরের তালিকায় স্থান পেলেও তাদের হাতে ব্যবহারযোগ্য নগদ অর্থ একই হারে বাড়েনি।
সম্পদ বৈষম্য পরিমাপের জিনি সূচকে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বিপরীতে সবচেয়ে কম সম্পদ বৈষম্যের দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে স্লোভাকিয়া।