বাংলাদেশ নারী দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলম এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা দাবি করেন, নারী ক্রিকেট দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছিলেন। সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনে নানান অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা তিনি সাক্ষাৎকারে জানান।
সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। জাহানারার দাবি, মঞ্জুরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে পিরিয়ড (মাসিক) সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন এবং বাজে প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
জাহানারা বলেন, “উনি (মঞ্জুরুল ইসলাম) আমার কাছে আসলো, এসে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বলছে, তোর পিরিয়ডের কত দিন চলছে? পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে তখন ডাকব, চলে আসিস।”
তিনি আরও জানান, সাধারণ হ্যান্ডশেকের পরিবর্তে মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে আপত্তিকরভাবে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করতেন। জাহানারা বলেন, “বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে, যখন আমরা লাইনে হ্যান্ডশেক করি, তখন তিনি (মঞ্জুরুল) হ্যান্ডশেক না করে জড়িয়ে ধরতেন।”
জাহানারা দাবি করেছেন যে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)-র নারী উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে এই হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা কোনো প্রতিকার পাননি।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত জাহানারা একজন ক্রীড়া সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কিছুদিন আগে জাহানারা বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে সতীর্থদের মারধরের অভিযোগ এনেছিলেন। এরপর পিংকিসহ আরও কয়েকজন সতীর্থের বিরুদ্ধে তাকে অপমান করার অভিযোগ করেন, যা বিসিবি “ভিত্তিহীন ও মনগড়া” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
জাহানারার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি খেলা জাহানারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দলের বাইরে আছেন। অপরদিকে, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুকে ২০২০ সালের অক্টোবরে নারী ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক করা হয় এবং পরে তিনি টিম ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন।