Ridge Bangla

দেশের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন: নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউ

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মিরপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠেছে সমগ্র দেশ। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে দেশের অগ্নিনিরাপত্তা ও যেকোনো প্রকার জাতীয় বিপর্যয়ে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।

সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ডগুলোকে নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং ‘পরিকল্পিত আগুন রাজনীতি’র অংশ বলেও সন্দেহ করছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গুদাম ও গার্মেন্টস কারখানায় আগুনে প্রাণ হারান ১৬ জন। দুদিন পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কেপিআইভুক্ত এলাকায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় একটি বহুতল ভবন। শনিবার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনে ছাই হয়ে যায় হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনেও উঠছে নানা প্রশ্ন। এসব ঘটনা কি কাকতালীয়, নাকি নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র—এই প্রশ্ন করছেন অনেকেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ক্রমাগত অগ্নিকাণ্ড দেশের জননিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আমাদের সামনে আরও স্পষ্ট করছে। এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে এসব আগুন পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তোলেন, কেপিআই এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে থাকল কেন? এটি কি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র?

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনায় আগুন লাগা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম মন্তব্য করেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চক্রান্তের অংশ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন মাহমুদ বলেন, একটির পর একটি অগ্নিকাণ্ড আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও আইনের প্রয়োগে ভয়াবহ ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, কেপিআই এলাকায় নাশকতা করা খুবই কঠিন। তাই অভ্যন্তরীণ কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্তে বের করতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, দুর্ঘটনা বা নাশকতা দুটোরই সম্ভাবনা আছে। উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে এমন বিপর্যয় হওয়ার কথা নয়।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডেরই স্বচ্ছ তদন্ত হবে। পূর্বের ঘটনাগুলোর মতোই রিপোর্টের ভিত্তিতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

This post was viewed: 51

আরো পড়ুন