গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ও গুলি ছিনতাই, খুন ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এমনকি অস্ত্রের কেনাবেচায় পুলিশের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন চট্টগ্রাম নগরীর আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে বিক্ষোভকারীরা ৮১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৪ হাজার ৩২৪টি গুলি লুট করে। নগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত এক বছরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, সাতকানিয়া ও বাকলিয়ায় সংঘটিত ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশের তথ্যমতে, এসব অস্ত্র দিয়ে খুন, ছিনতাই ও নির্যাতনের মতো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। কিছু ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এদিকে, পুলিশের এক কনস্টেবলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র বিক্রিতে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। চলতি বছরের মার্চে রিয়াদ নামের এক পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের মধ্যে তিনজন আদালতে অস্ত্র বাণিজ্যের বিষয় স্বীকার করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ না থাকলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”