Ridge Bangla

তারেক রহমান কি হয়ে উঠতে পারবেন বাংলাদেশের রাজনীতির আলোর দিশারী?

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়। বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিবর্তিত ও পরিপক্ব নেতৃত্বের আগমন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একসময় যিনি মাঠপর্যায়ের কঠোর সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন কৌশলগত, দূরদর্শী ও আধুনিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তারেক রহমান সক্রিয়ভাবে তৃণমূল রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। সারা দেশে প্রতিনিধি সভা আয়োজন করে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তরুণদের সংগঠিত করা এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো- সব মিলিয়ে তিনি তখন ছিলেন একজন শক্তিশালী মাঠনির্ভর নেতা। তবে ২০০৬ সালের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০০৭–০৮ সালের ঘটনাপ্রবাহ তার রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় এনে দেয়। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং দীর্ঘদিন সেখানেই অবস্থান করেন।

এই দীর্ঘ প্রবাসকালেই তারেক রহমান নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগের তুলনায় তিনি এখন অনেক বেশি শান্ত, পরিমিত ও কৌশলী। সরাসরি রাজপথে উপস্থিত না থাকলেও প্রযুক্তির ব্যবহার করে তিনি দল পরিচালনা করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত বৈঠক, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার নেতৃত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে সাংগঠনিক সংস্কারের চেষ্টাও স্পষ্ট। ‘পারিবারিক রাজনীতি’র অভিযোগ থেকে দলকে বের করে এনে একটি আধুনিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নীতিনির্ধারণ এবং কর্মসূচি গ্রহণে মাঠপর্যায়ের তথ্য ও ডাটার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ‘জুম’ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তরুণ প্রজন্মের কাছে বিএনপির আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে।

লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমান নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নেও মনোযোগ দেন। আইন, সমকালীন রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা তার চিন্তাধারাকে আরও পরিশীলিত করেছে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে, যা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারেক রহমান নিজের ও দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, গার্ডিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি নিজেকে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী নয়, বরং বৈশ্বিক মানদণ্ডের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার ঘোষিত ‘৩১ দফা’ কর্মসূচিতে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা স্পষ্ট, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক অবকাঠামোয় উন্নত বিশ্বের মডেলের প্রতিফলন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফেরা তারেক রহমান এখন একজন ভিশনারি ও পরিকল্পনাভিত্তিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পথে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

This post was viewed: 32

আরো পড়ুন