সারাদেশে অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ জোরদার করা হয়েছে। গত ১১ দিনের এই ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর ১৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির এক জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ১১ দিনে সারা দেশে মোট ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩৮ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কঠোর নজরদারির ফলে সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৮টি মোটরসাইকেল এবং ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১১টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। উপযুক্ত নথিপত্র না থাকায় এবং অবৈধ সন্দেহে ৩ হাজার ২৯৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে শুরু করা হয়েছে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’।