কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষককে ঘরে আটকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর মায়ের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষিকার মাথায় ১০টি কোপ লেগেছে এবং ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫) একই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।
শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিঁথি স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। গত তিন মাস ধরে তিনি প্রিয়ার এক সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াচ্ছিলেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে তাকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হতো। সম্প্রতি টিউশনির পাওনা টাকা চান সিঁথি। এতে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন।
সোমবার সকালে শিক্ষার্থীকে পড়াতে প্রিয়ার বাড়িতে যান সিঁথি। পড়ানো শেষে বের হওয়ার আগমুহূর্তে প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ।
দরজা আটকানো থাকায় চেষ্টা করেও ঘর থেকে বের হতে পারেননি সিঁথি। হামলায় তার সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
আহত শিক্ষিকাকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের আঘাত রয়েছে এবং সেখানে ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।
সিঁথি সীমিতা বলেন, ‘মাথায় প্রথম কোপটি দেয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে দেখি অন্য দিন এক ছিটকিনি লাগানো থাকলেও ঘটনার দিন দুই ছিটকিনি লাগানো। পরে আর বের হতে পারিনি। আমার গলায়, হাতে, কানে মিলিয়ে দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিল। কোপানোর সময় প্রিয়া বলছিলেন, আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান? স্বর্ণ দে।’
ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির বলেন, হামলার ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।