কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ভণ্ড কবিরাজের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। ছোট বোনকে জিন তাড়াতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তের ফাঁদে পড়েন বড় বোন। উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের অভিযোগে ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে কুদ্দুস মিয়া (৪৫) নামের এক কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সকালে ওই তরুণী তাঁর ছোট বোনকে জিন ছাড়ানোর জন্য কবিরাজ কুদ্দুসের বাড়িতে যান।
সেখানে কুদ্দুস নানা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীটিকে তাঁর বসতঘরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কুদ্দুস মিয়া ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
টাকা দেওয়ার পরও কুদ্দুস মিয়া আরও তিন লাখ টাকা দাবি করলে, ভুক্তভোগী দিতে অস্বীকার করেন। এর জের ধরে কবিরাজ ধারণ করা ভিডিও ও ছবি ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী জানান, চিকিৎসার আগে কবিরাজ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেন। টাকা ফেরত চাওয়ায় তিনি ভিডিও ছড়িয়ে দেন। ভুক্তভোগীর মা বলেন, ভণ্ড কবিরাজের ফাঁদে পড়ে আমার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। আমি তার কঠোর বিচার চাই।
গতকাল (২০ অক্টোবর) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।