মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) হরমোজগান প্রদেশের সারগাজ এলাকার কাছে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে হরমোজগান ও কেরমান প্রদেশের সারগাজ এলাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
মেহরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্পের পরপরই কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ২২ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম লাইভ মিন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে সারগাজ এলাকায় আঘাত হানা ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে হরমোজগান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়।
হরমোজগানের যে এলাকায় ভূমিকম্পটি হয়েছে, সেটি ইরানের অন্যতম সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও কোনো প্রাণহানি বা বড় অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৯ রেকর্ড করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মিনাব শহরের প্রায় ১০১ কিলোমিটার উত্তরে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটি ভূমিকম্পের গভীরতা ১০ কিলোমিটার উল্লেখ করলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
গভীর রাতে কম্পন অনুভূত হওয়ার পর হরমোজগানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ শুরু করে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমোজগান ও কেরমান প্রদেশের সারগাজ এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ইরানি মালভূমির নিচে বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের জটিল অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।