Ridge Bangla

গভীর রাতে ইরানে নতুন করে একাধিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে আবারও একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও অবরোধ কার্যকর করেছে মার্কিন বাহিনী।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে সাময়িক শান্তি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে তারা। এর কিছুক্ষণ আগেই ইরানি গণমাধ্যম সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহর কিংবা এর আশপাশে মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ করে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই সর্বশেষ অভিযানের লক্ষ্য।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইরানের কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আবাদান শহর, বন্দরনগরী মাহশাহর, কেশম দ্বীপ এবং কিশ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবাদানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে পুরোনো তেল শোধনাগার রয়েছে।

আগের রাতেও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বুশেহর ও বন্দর আব্বাসও ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

এর জবাবে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলীয় জলসীমায় চলাচলকারী ২টি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথ্য অনুযায়ী, এতে ১ নাবিক নিহত হয়েছেন। একই দিনে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার বলেন, ‘এটি এখন কম তীব্রতার হলেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কাতারের দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ভিক্টোরিয়া গেটেনবি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন ছিল। কারণ এই অঞ্চলে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।”

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মঙ্গলবার ২টি সুপারট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। বাহিনীটির দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজ ২টি নির্দেশনা না মানায় সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তবে বাহরাইনের দাবি, তারা ইরানের আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি রয়েছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন