গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ও মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর রেলস্টেশনে এখনো থামে না কোনো ট্রেন। পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ চালুর দুই বছর পরও এসব স্টেশন চালু না হওয়ায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল রুটে মোট ২৮টি স্টেশন থাকলেও চালু আছে মাত্র ১৫টি। বাকি ১৩টি এখনো বন্ধ। এর মধ্যে মহেশপুর ও মুকসুদপুর স্টেশন দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনবল সংকটে সেগুলো চালু করা যায়নি। একটি স্টেশন সচল রাখতে ২৩ জন কর্মী প্রয়োজন হলেও এসব স্টেশনে এখনো লোকবল বরাদ্দ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেশন নির্মাণ হলেও ট্রেন না থামায় এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। জয়নগরের বাদশা মোল্লা বলেন, “আমাদের ঘরের পাশ দিয়ে ট্রেন যায়, অথচ থামে না। ভাড়া দিয়েই যেতে চাই, কিন্তু এখানে ওঠার সুযোগ নেই।”
এলাকার আরেক বাসিন্দা ইয়াছিন বলেন, “চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরকার এত টাকা খরচ করল, অথচ স্টেশন বন্ধ পড়ে আছে।”
রেলওয়ের কাশিয়ানী স্টেশনমাস্টার অনিক বিশ্বাস জানান, “লোকবল না থাকায় মহেশপুর ও মুকসুদপুর স্টেশন চালু হয়নি। কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা পাইনি।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “বাজেট স্বল্পতা ও জনবল সংকটের কারণে এখন সব স্টেশন একসঙ্গে চালু করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব এলাকায় যাত্রী চলাচল বেশি, সেগুলো আগে চালু করা হবে।”