স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রধান লি জুনহুয়ার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও ৩ বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
ড. তিতুমীর বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।
লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ সফল ও টেকসই করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও জানান তিনি।
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানার সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও সরকারের সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এ সময় সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল অর্থাৎ ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন এন্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সেলারেশন’-এর বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রূপরেখা হিসেবে এ কৌশল কাজ করবে।
আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সরকারের সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গেও বৈঠক করেন ড. তিতুমীর। সেখানে গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কান্নি উইগ্নারাজা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।