ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। খুজেস্তান প্রদেশের একটি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় ১ নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) ইরানে নতুন দফার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রোববার বিকেল ৫টা থেকে ইরানে নতুন অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। ইরানের স্থানীয় সময় তখন সোমবার রাত সাড়ে ১২টা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে তারা।
কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। ইরানি বাহিনীকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মার্কিন বাহিনীর।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র ছিল।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, চলতি সপ্তাহে টানা ৩ রাতের অভিযানে ইরানের ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৌশলগত নৌপথটি বন্ধ রাখার তেহরানের ঘোষণার পর এসব অভিযান শুরু হয়।
অন্যদিকে রোববার ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি।
এর মধ্যে সোমবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম দ্বীপ ও জাস্ক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হরমোজগান প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর ও কানগান শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের মারকাজি প্রদেশের খোন্দাব গ্রামের বাসিন্দারা ২টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের এসএনএন নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারকাজি প্রদেশের উপ-গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের বাইরে ‘শত্রুপক্ষের নিক্ষেপ করা গোলা’ আঘাত হানায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় কৃষিকাজে পানি সরবরাহকারী একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন।
প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উপ-গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি জানান, সোমবার ভোরে পাম্পিং স্টেশনটিতে হামলা হয়। নিহত ব্যক্তি সেখানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরুরি ও চিকিৎসা দল কাজ করছে।
আধা-সরকারি ইসনা সংবাদ সংস্থাকে হায়াতি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত ৮টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফায় এসব আঘাত হানা হয়।
হায়াতি বলেন, হামলার শিকার প্রতিটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে। আহভাজ বিমানবন্দরে হামলার খবরও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, শহরের কাছাকাছি যে ২টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো বিমানবন্দর থেকে দূরে।