Ridge Bangla

ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধ থেকে গাজায় হামলা, সামরিক অভিযানের কট্টর সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম

‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর মারা গেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধ থেকে শুরু করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা- বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পক্ষে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সোচ্চার ছিলেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) গ্রাহামের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়েছে।

গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘তিনি (গ্রাহাম) আমার দেখা অন্যতম সেরা মানুষ এবং সিনেটর ছিলেন। তিনি সবসময় কাজ করে গেছেন এবং প্রকৃত অর্থেই একজন আমেরিকান দেশপ্রেমিক ছিলেন। লিন্ডসে, তোমার অভাব খুব অনুভূত হবে… খুবই দুঃখজনক।’

মার্কিন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ছিল গ্রাহামের। ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সেনাদের জীবন দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিতেন তিনি। নিজের নির্বাচনী এলাকার তরুণদেরও ইসরায়েলের জন্য জীবন দিতে পিছপা না হওয়ার কথা বলতেন।

২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের কাছে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার দাবি তুলে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ওই যুদ্ধ শুরু করেছিল। পরে সেই দাবি ভুল প্রমাণিত হয়। প্রায় ৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধে কয়েক লাখ সাধারণ ইরাকি প্রাণ হারান।

ইরাক যুদ্ধের অন্যতম কট্টর সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম। মার্কিন সিনেটে নিয়মিত এই সামরিক অভিযানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের প্রতি নিজের সমর্থন প্রকাশ করতে কিছু সময় ইরাকের যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর রিজার্ভ সদস্য হিসেবেও অবস্থান করেন।

২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে এর বিরোধিতা করেন গ্রাহাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরাক ‘জাহান্নামে পরিণত হবে’।

আফগানিস্তানে প্রায় ২ দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেরও’ শক্ত সমর্থক ছিলেন এই মার্কিন সিনেটর। ইরাকের মতো আফগানিস্তান থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। সেখানে ইসরায়েলের লাগাতার নির্বিচার হামলায় প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের পক্ষে কথা বলেছেন গ্রাহাম।

জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির মতো গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন গ্রাহাম। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পূর্ণমাত্রার হামলা চালানোর পরও তিনি প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সে সময় গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত আয়াতুল্লাহদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন ট্রাম্প।’

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন