Ridge Bangla

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ, ৭ দিনেই অতিরিক্ত মৃত্যু ১০ হাজারের বেশি

জুনের শেষ দিকে রেকর্ড তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজারের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থনপুষ্ট নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’র প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। এ কারণে তাপপ্রবাহের সময় বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

ইউরোমমোর আয়োজক সংস্থা ডেনমার্কের স্টেটেনস সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে বলেন, ‘বছরের এই সময়ে এ ধরনের অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক। সংখ্যাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া মৃত্যুর এই অস্বাভাবিক হারের অন্য কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।’

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জুনের শেষ দিকের এই তাপপ্রবাহ তৈরি হয়েছে। ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র গরম চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই ৭ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই অতিরিক্ত মৃত্যুর এই হিসাব করা হয়েছে।

ইউরোমমোর পরিসংখ্যান বলছে, এর আগের ৮ সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় গড়ে প্রায় ৫০০ জন কম ছিল। তবে নতুন তথ্য যুক্ত হলে বর্তমান হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

দেশভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ করেনি ইউরোমমো। সংস্থাটি জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ইউরোপে শুধু ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে ‘অত্যধিক মৃত্যুহার’ নথিভুক্ত হয়েছে।

বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ‘সায়েনসানো’র তথ্য বলছে, ২০০০ সালের পর দেশটিতে কোনো তাপপ্রবাহে এত বেশি মানুষের মৃত্যু আর হয়নি।

অন্যদিকে সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মে ও জুনের তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউকে মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষণা অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর ৪২ শতাংশের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রভাব ছিল।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন