যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে তেহরান কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না।
সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে বাঘাই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের চালানো হামলাগুলো কেবল সেই সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা করব না।’
ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, শনিবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। ইরানের লক্ষ্য ছিল এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
তবে তার দাবি, ওমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে ওই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ইরানও নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।