পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও ফিলিস্তিনিদের জীবনে দমন-পীড়নের বাস্তবতা রয়ে গেছে। তবুও ঈদের আত্মত্যাগ ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শুক্রবার (৬ জুন) জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন হাজারো মুসল্লি। ফজরের আগ থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে মসজিদের উদ্দেশে আসতে থাকেন। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ, যা সম্পন্ন হয় সুশৃঙ্খল পরিবেশে।
ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত আল-আকসা মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি ফিলিস্তিনিদের কাছে জাতীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও প্রতিরোধের প্রতীক। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও বৈষম্যের মধ্যেও এভাবে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ ফিলিস্তিনি জনগণের ধর্মীয় সংহতি ও সাহসের প্রকাশ।
ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই এরপর কোরবানি দেন ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবে। এবারের ঈদে আল-আকসা চত্বরে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল বেশ কঠোর। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এই জনসমাগম বিশ্ব মুসলিমদের কাছে এক স্পষ্ট বার্তা দেয়—দখল, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আল-আকসায় আদায় করা এই ঈদের নামাজ যেন ফিলিস্তিনিদের অবিচলতা, আত্মমর্যাদা এবং প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।