Ridge Bangla

বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে ফিফা

চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের পথে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটি ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রকৃত আয় সেই লক্ষ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হয়েছিল ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটি আয় করেছিল ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ফিফার সদস্যভুক্ত জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের এ তথ্য জানান সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আয়ের এই বড় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে উচ্চমূল্যের হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং সেকেন্ডারি বা পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিট বিক্রি। পুনর্বিক্রয় হওয়া প্রতিটি টিকিটের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ কমিশন পাচ্ছে ফিফা।

বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ সদস্যদেশগুলোর ফুটবল সংস্থার মধ্যে বণ্টনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে অর্থ বণ্টনের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এই রেকর্ড আয় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন বিতর্কে সমালোচনার মুখে পড়লেও বাণিজ্যিক এই সাফল্য তাঁর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে দেখানো লাল কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখেই ফিফা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ফিফার দাবি, তাদের শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু বিষয়টি বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ইনফান্তিনো ২০০টির বেশি সদস্য সংস্থার সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড আয়ের সুফল সদস্য সংস্থাগুলো পেলে তাঁর প্রতি সমর্থন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের এই আর্থিক সাফল্য ভবিষ্যতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে আসর আয়োজনের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আবারও যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নেওয়া উচিত। এবার অবশ্য কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়াই।’ এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।

এদিকে নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন–আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রাত পর্যন্ত ফিফার টিকিটিং পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ বিক্রি চলেছে। এর মধ্যে ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের একটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্যের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন