ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পরও জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। ইরানি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তাকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য তেহরানে আয়োজিত ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন না। তাদের মতে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাকেও হত্যার হুমকি থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা খামেনিও আহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের আরও ৪ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক ভাতিজি।
যদিও তিনি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি, তবু তার নামে একাধিক লিখিত বার্তা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গত ১৮ জুন প্রকাশিত একটি লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে ভিন্ন মত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি ওই সমঝোতায় সম্মতি দেন। তাদের দাবি ছিল, চুক্তিটি ইরানি জনগণের অধিকার এবং প্রতিরোধ অক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এরপর ২৮ জুন প্রকাশিত আরেকটি লিখিত বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা এবং তার পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।
বার্তায় তিনি বলেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত- এই অপরাধীদের গলা ধরে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে এবং তাদের অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকা ইরানের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীরতাই নির্দেশ করছে। তাদের ধারণা, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তেহরান নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।