রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর বাইরে ইরানের হাতে আরও শক্তিশালী কৌশলগত একটি হাতিয়ার রয়েছে। তার মতে, তেহরানের জন্য হরমুজ প্রণালী ‘পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়’। একই সঙ্গে তিনি বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে আরও কার্যকর কৌশলগত উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেলে বাব আল-মান্দেব প্রণালী মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত করার সক্ষমতা রাখে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে তেহরানে অবস্থান করছেন মেদভেদেভ। তিনি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পুতিনের শোকবার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেছেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘রিয়া নভোস্তি’ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মস্কো ও তেহরানের সহযোগিতা তাদের ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’র আওতায় অব্যাহত রয়েছে। মেদভেদেভ তেহরানকে ‘প্রাণবন্ত ও দ্রুত বিকাশমান শহর’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সফরটি তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলার সময় দেশটি ‘অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে অন্যতম কঠিন একটি পরীক্ষা অতিক্রম করেছে।’ পাশাপাশি তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে তিনি অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেন।
মেদভেদেভ আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে তার মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে নন। তবে ইতোমধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।
রাশিয়ার এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কোনো আলোচনা না হওয়ার চেয়ে আলোচনা হওয়াই সবসময় ভালো। তার আশা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংলাপ শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার গতিপথ ভিন্ন দিকেও মোড় নিতে পারে।
সফরের সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মেদভেদেভ। তার মতে, রাশিয়া, ইরান, চীন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা অন্যান্য দেশ অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ মোকাবিলায় একটি সম্মিলিত কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মেদভেদেভ বলেন, হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের জন্য একটি প্রতিরোধমূলক কৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালী আরও শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃহত্তর কোনো আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।