নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের দাবি, অনুমতি পাওয়ার পরও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে ঢাকায় ফিরে যান।
ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার প্রায় এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ১৪ জুন সাধারণ পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে যান। নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বহুপক্ষীয় বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীর প্রতিমা ও ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়েও ভারতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে হিন্দু দেবতাদের প্রতিমা ও ছবি অবমাননার কিছু খবর দেখেছি, যা নিয়ে সেখানে বিক্ষোভও হয়েছে। ভারত আশা করে, বাংলাদেশ সরকার সেখানকার চরমপন্থীদের কঠোর হস্তে দমন করবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করবে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী কিছু মন্তব্যের কারণে জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের অভিবাসন নজরদারি তালিকায় ছিল। প্রশাসনিক জটিলতায় সেই তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়ায় অভিবাসন ব্যবস্থায় সতর্ক সংকেত দেখা যায়। এর ফলে তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়।
এই ঘটনার পর ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ জানানো হয়। পরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।