চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ফোরামের কোনো সম্মেলনে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে আগত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করছেন।’
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্মেলনে থাকা চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন।
এর আগে মঙ্গলবার দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই জ্বালানি নীতিসহ দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণ করা।’
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জভিংগি বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয় ও প্রস্তাবগুলো ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকের পর সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মূল বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান আলোইস জভিংগি।