Ridge Bangla

বিয়ের আগেই হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে

ভারতের মহারাষ্ট্রে বিয়ের কয়েক মাস আগে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে পাহাড় থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর হবু স্ত্রী ও ওই নারীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। পুনের লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি প্রথমে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কেতন আগরওয়াল মহারাষ্ট্রের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েলের জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে তাঁর সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে যান কেতন। সেখানে পাহাড়ের চূড়ায় ছবি তোলার সময় তিনি গভীর খাদে পড়ে যান।

ঘটনার পর সিয়া পুলিশ ও পরিবারকে জানান, ছবি তোলার জন্য দাঁড়ানোর সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে পড়ে যান কেতন। পরে প্রায় ৩ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কেতন ও সিয়ার বিয়ে ঘিরে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানের উদয়পুরে রাজকীয়ভাবে বিয়ের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।

পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিয়ের জন্য জয়পুরের একটি রাজপ্রাসাদ প্রায় ১৭ কোটি রুপিতে বুকিং করা হয়েছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এমন প্রস্তুতির মধ্যেই কেতনের মৃত্যুতে দুই পরিবারে শোক নেমে আসে।

ঘটনাটিকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসংগতি খুঁজে পায় লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা পর্যটকদের বক্তব্য, সিয়া ও কেতনের মোবাইলের তথ্য এবং কল রেকর্ড যাচাইয়ের পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়।

এরপর সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

পুনের এসএসপি সন্দীপ সিং গিল জানান, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। এ কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এই পরিকল্পনায় তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সহকর্মী ও প্রেমিক চেতন।

পুলিশের দাবি, জন্মদিন উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে কেতন যখন পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন, তখন সুযোগ বুঝে সিয়া ও চেতন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক দুজনই পরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। হত্যার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন