লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের সীমান্তের কাছে একটি বড় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, ওই স্থাপনায় ইরানি প্রযুক্তির কামিকাজে ড্রোন সংযোজন ও প্রস্তুতের কাজ করছিল হিজবুল্লাহ।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত থেকে প্রায় ৪ মাইল উত্তরে মাজদাল জুন গ্রামের নিচে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কটি পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, এটি সেসব এলাকার একটি অংশে অবস্থিত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় তৈরি করা ড্রোন ইসরায়েলের ভেতরে হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেখানে পাওয়া সরঞ্জাম ও ড্রোন ধ্বংসের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।
ইরান ও লেবানন ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই দাবি সামনে এল। সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছে। একই সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত মানলে ইসরায়েলও তা মেনে চলবে। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না বলেও জানান তিনি।
গিদিওন সারের অভিযোগ, ইরানের সমর্থন পাওয়া হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনাও বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে ইরানের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে- ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তার পর আলোচনা কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আশাবাদী। তাঁদের মতে, দুই পক্ষের কাছেই সম্ভাব্য সমঝোতার একটি কাঠামো রয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তির পথে অগ্রগতি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ ইস্যুতে ইসরায়েল এখন জটিল কৌশলগত পরিস্থিতির মুখোমুখি। হামলার জবাব দিলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কোনো পদক্ষেপ না নিলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।