ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। আগামী জুলাই মাসের শুরুতে কয়েক দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরদিন ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজার আয়োজন করা হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে। ৯ জুলাই সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। ওই দিনই নিহত হন আলী খামেনি।
খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তার নামের আগে ব্যবহৃত ‘আয়াতুল্লাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আল্লাহর নিদর্শন’ বা ‘ঐশ্বরিক চিহ্ন’। দ্বাদশীয় শিয়া মতাদর্শে এটি একটি উচ্চ ধর্মীয় পদবি হিসেবে বিবেচিত।
সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি আইনশাস্ত্র ও ধর্মতত্ত্ব নিয়ে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করা জ্যেষ্ঠ আলেমদের এই উপাধি দেওয়া হয়। একজন আয়াতুল্লাহকে সাধারণত ‘মুজতাহিদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুজতাহিদ হলেন এমন একজন ধর্মীয় আইনবিদ, যিনি স্বাধীনভাবে ইসলামি আইনি ব্যাখ্যা বা ‘ইজতিহাদ’ করতে এবং ধর্মীয় বিধান বা ফতোয়া দিতে সক্ষম।
যদিও ‘আয়াতুল্লাহ’ মূলত একটি ধর্মীয় উপাধি, তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে এটি রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উচ্চপর্যায়ের ধর্মীয় ও আইনশাস্ত্রীয় যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন।
শিয়া মতাদর্শ ইরানের রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ। দেশটির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ এই মতাদর্শ অনুসরণ করেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি তার স্থলাভিষিক্ত হন। এর আগে মোজতবা খামেনি ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা আয়াতুল্লাহর চেয়ে এক ধাপ নিচের ধর্মীয় মর্যাদা।