বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় রাজ্যগুলোর জেলাগুলোতে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ জন্য জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অমিত শাহ। বৈঠকে তিনি কমিটিকে সীমান্ত এলাকা, মহানগর ও শিল্পনগরী পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। অবৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, তা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসের শেষ দিকে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পিপি নওলেকার। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার জন্য বিস্ময়কর ছিল এবং জনসংখ্যাতত্ত্ব ও অবৈধ অভিবাসন তার কাছে নতুন ক্ষেত্র।
এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যসচিব দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, পুলিশ গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরোর সাবেক প্রধান বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স–১) সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে কমিটিতে কোনো জনসংখ্যাতত্ত্ববিদ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ব্যবহৃত তথ্যের মান নিয়ে এতে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যেই আলাদা এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজেপির নেতারা একাধিকবার ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দীর্ঘ বিলম্বকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তার দাবি, ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির পর আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই সময়ে সীমান্ত ভাগ করা অন্য রাজ্যগুলোতে একই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
হিমন্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। আসাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা বলেছিলাম, আসাম–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করা উচিত এবং সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমরা ভাবিনি যে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও একইভাবে বেড়া নির্মাণ করা দরকার। আমাদের দাবি হওয়া উচিত ছিল পুরো ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেড়া নির্মাণ।’
পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সীমান্তের বড় অংশ উন্মুক্ত ছিল, যা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আগে মেঘালয়ে কোনো বেড়া ছিল না। এখন সেখানে ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ত্রিপুরায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়া নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং মিজোরামেও কাজ এগোচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত দীর্ঘদিন খোলা ছিল, এখন সেখানে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’