Skip to main content

Ridge Bangla

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বিলম্বকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বললেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সব রাজ্যে একসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার উদ্যোগ না নেওয়া ছিল একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির পর আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে একই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকা অন্য রাজ্যগুলোতে একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। আসাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছিল। তবে তখন মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও একইভাবে সীমান্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি হওয়া উচিত ছিল পুরো ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেড়া নির্মাণ।’

অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সীমান্তের বড় অংশ উন্মুক্ত ছিল। এর ফলে সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তথ্য অনুযায়ী, আগে মেঘালয়ে কোনো সীমান্ত বেড়া ছিল না। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ত্রিপুরায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং মিজোরামেও কাজ চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত দীর্ঘদিন উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে সেখানে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্তের এক অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখে অন্য অংশ খোলা রাখার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

হিমন্ত বলেন, ‘যদি শিলিগুড়ি খোলা থাকে আর মানকাচর বন্ধ থাকে, তাহলে এর অর্থ কী? এগুলো ছিল ঐতিহাসিক ভুল।’

সীমান্তবর্তী এলাকায় জনমিতিক পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি কমিটি করেছে। সীমান্ত অঞ্চলে জনমিতিক পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ হবে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের নাগরিকত্বের অবস্থা যাচাই করা।’

আসাম চুক্তির আওতায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে গতি এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। হিমন্ত বলেন, ‘১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির ধারাগুলোর প্রকৃত বাস্তবায়ন ২০২৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে আমরা বাংলাদেশি চলাচল থামাতে সক্ষম হইনি।’

This post was viewed: 34

আরো পড়ুন