মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে রোববারই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান বলছে, প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের আলোচক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘‘আলোচনাকালে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বা ঘোষণা দেয়নি।’’
সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন ইরানের কট্টরপন্থিরা। তাদের দাবি, এতে দেশটির স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না। পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ইরানের সঙ্গে রোববারই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। চুক্তির পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি আলোচকরা যখন বলছেন সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তখন ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অস্বাভাবিক চাপ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি হয়তো এই দিনে চুক্তি করে সেটিকে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে চাইছেন।
এর আগে শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ২০১৫ সালের ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেটি বন্ধ করেছেন এবং বর্তমানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। ইরানের সঙ্গে আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় তার সরকারের সম্পর্ক ভালো বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, ‘বারাক ওবামার ইরানের সঙ্গে করা চুক্তিটি ছিল মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর একটা সহজ, সুন্দর ও মসৃণ রাস্তা। চুক্তিটি থাকলে ইরান ছয় বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত এবং এতদিনে সেটা ব্যবহারও করে ফেলত। ইরানের সাথে আমার চুক্তিটা ঠিক এর উল্টো- এটি পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোর একটা নিরেট দেয়াল! সত্যি বলতে, তারা এখন আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চায়ও না, আর কোনোভাবেই তা পাবেও না।’