Ridge Bangla

বানেশ্বর আমহাটে ‘ঢলন’ সিন্ডিকেটে জিম্মি চাষি

উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে প্রভাবশালী আড়তদার সিন্ডিকেটের কারণে ‘ঢলন’ বা ‘ধলতা’ প্রথায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কেজিভিত্তিক বেচাকেনা চালুর সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবে এখনো মণপ্রথা ও অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার প্রথা বহাল রয়েছে।

চাষিদের অভিযোগ, ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও বাজারে ৪৮ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে প্রতি মণে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১৪ কেজি আম বিনামূল্যে চলে যাচ্ছে আড়তদারদের হাতে। পাশাপাশি লেনদেনে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বানেশ্বর হাটে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আম কেনাবেচা হলেও অধিকাংশ লেনদেন চলছে অলিখিত নিয়মে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে আড়তদারদের নির্ধারিত নিয়মেই চলছে বাণিজ্য। চাষিদের দাবি, প্রতিবাদ করলে আম কেনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

চারঘাটের আমচাষি আমির হামজা বলেন, সারা বছর কষ্ট করে আম উৎপাদন করি, কিন্তু হাটে এসে ন্যায্য দাম পাই না। ৪০ কেজির বদলে ৫৪ কেজিতে মণ ধরা হয়। আমরা সম্পূর্ণভাবে জিম্মি।

অন্যদিকে কিছু আড়তদার দাবি করছেন, এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা এবং পরিবহন ও ক্ষতির হিসাবেই বাড়তি আম নেওয়া হয়। গত বছর প্রশাসনের উদ্যোগে ঢলন প্রথা বাতিল করে কেজিভিত্তিক বেচাকেনা এবং কমিশন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ চাষিদের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বকসী বলেন, এটি কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা। কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

This post was viewed: 10

আরো পড়ুন