ঝড়-বৃষ্টি, একসঙ্গে ধান পেকে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ঝিনাইদহ জেলার বোরো চাষিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনিয়মিত আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে মাঠে কাটা ধানের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিনের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। একই সময়ে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় ধান কাটার খরচও বেড়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকরা প্রতি বিঘায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন, যা সরকারি নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক তাইজেল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে এবং কাটা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।