Ridge Bangla

কারিনা কায়সারের নিঃশব্দ যন্ত্রণার গল্প

তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে। ক্যামেরার সামনে সবসময় প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি থাকা এই তরুণী যে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন শারীরিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই বুঝতে পারেননি।

গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিভারজনিত জটিলতায় মারা যান কারিনা। মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সামনে আসছে তার শেষ সময়ের অজানা গল্প এবং অসুস্থতার ভয়াবহ বাস্তবতা।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু কাজের প্রতি প্রবল ভালোবাসা এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে নিজের অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেননি। নিয়মিত শুটিং, কনটেন্ট নির্মাণ ও নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন শেষ সময় পর্যন্ত।

কারিনার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ জানান, প্রথমদিকে পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে উঠেছে। সাধারণ জ্বর ও দুর্বলতা থেকে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় পরে ধরা পড়ে, হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসের সংক্রমণে তার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ফুসফুসেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এতে শরীরে বিষক্রিয়ার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।

একপর্যায়ে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাকে। সেখানে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সংক্রমণের প্রভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দ্রুত অকার্যকর হতে শুরু করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কারিনার বাবা জানান, শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অসুস্থতার মধ্যেও নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দিতেন না কারিনা। নতুন কনটেন্ট, চিত্রনাট্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

তার মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত ও সহকর্মীদের ভাষায়, হাসিমুখের আড়ালে এত বড় শারীরিক যুদ্ধ লড়ছিলেন কারিনা, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন