দেশের তরুণ-তরুণীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য এখন চাকরির তথ্য অনুসন্ধান। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অনলাইনে প্রবেশ করলেই অধিকাংশ তরুণের প্রথম লক্ষ্য থাকে সরকারি চাকরির খবর খোঁজা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৪.২ শতাংশ তরুণ অনলাইনে চাকরির তথ্য খোঁজেন। এর পরেই রয়েছে ক্রীড়াবিষয়ক তথ্য, যা অনুসন্ধান করেন ৪৯.৮ শতাংশ ব্যবহারকারী।
প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৭২.৪ শতাংশ মানুষ, যা দেশের ডিজিটাল নির্ভরতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
জরিপে দেখা যায়, স্মার্টফোন ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা, আর সবচেয়ে পিছিয়ে কুড়িগ্রাম। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে ঢাকা, যেখানে ৬৫.৪ শতাংশ পরিবার অনলাইনে যুক্ত। সর্বনিম্ন হার পাওয়া গেছে ময়মনসিংহে ৩৭.৮ শতাংশ।
শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ব্যবধান রয়েছে। শহরে এই হার ৭৫.৭ শতাংশ, গ্রামে তা ৪৩.৬ শতাংশ।
গত তিন মাসে ১১.৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য বা সেবা কিনেছেন। আর এক বছরে ১৬.৯ শতাংশ নাগরিক ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন। ডিজিটাল দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কপি-পেস্ট করার সক্ষমতা, যা ৮৪.৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর রয়েছে।
প্রায় অর্ধেক (৫০.৫ শতাংশ) ব্যবহারকারী ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়া ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ৪৩.৬ শতাংশ মানুষের জন্য বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৯৮.৯ শতাংশ। তবে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে ৫৫.১ শতাংশ পরিবারে এবং কম্পিউটার ব্যবহার ৯ শতাংশ। ব্যক্তিগত ব্যবহারে মোবাইল ফোনে এগিয়ে ৮৮.৪ শতাংশ মানুষ, ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৫৩.৪ শতাংশ এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেন মাত্র ১১.৩ শতাংশ।
মোবাইল মালিকানায় পুরুষদের হার ৭০ শতাংশ, যেখানে নারীদের ৫৮.৯ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষরা (৫৬.৬%) কিছুটা এগিয়ে নারীদের (৫০.২%) তুলনায়।
ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, মুঠোফোনে রেডিও শোনার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে টেলিভিশন দেখার হার কমছে যা বিনোদনের মাধ্যমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনও মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় সেখানে।