চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শুরুতে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত বিষাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনাকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে ইউরোপসেরার লড়াই থেকে ছিটকে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। অন্যদিকে দীর্ঘ ৯ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করল দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা।
নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনা এদিন মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল অল-আউট ফুটবল। ইতিহাসে নিজেদের সর্বকনিষ্ঠ একাদশ নিয়ে মাঠে নেমে চমক দেখান ফ্লিক। খেলার মাত্র ৪ মিনিটেই তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালের লক্ষ্যভেদে লিড নেয় কাতালানরা। এই এক গোলেই ম্যাচে ফেরার জোরালো ইঙ্গিত দেয় সফরকারীরা।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো উল্লাসে মাতে বার্সা শিবির। দানি ওলমোর নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ান ফেররান তোরেস। এই গোলের সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় (২-২) ফেরে বার্সেলোনা। গ্যালারি ভর্তি আতলেতিকো সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে বার্সা তখন কামব্যাকের স্বপ্নে বিভোর।
তবে বার্সেলোনার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩১তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আদেমোলা লুকমান। মার্কোস ইয়োরেন্তের বাড়ানো বল থেকে তার করা এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই লেগের ব্যবধানে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ফেরান তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআর প্রযুক্তিতে অফসাইড প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল হয় গোল। এরপর ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বার্সার প্রতিকূলে চলে যায় যখন এরিক গার্সিয়া সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে বদলি হিসেবে নামিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর অদম্য দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় বার্সা আক্রমণভাগ। ফলাফলস্বরূপ, ২০১৪ ও ২০১৬ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে বার্সেলোনাকে আবারও কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই বিদায় করে সেমিফাইনালের উল্লাসে মাতে মাদ্রিদের লাল-সাদারা।