Ridge Bangla

এক টুকরো লাল-সাদা ঐতিহ্যের বৈশাখ

ভস্ম হতে জেগে ওঠা ফিনিক্সের মতো, পহেলা বৈশাখ হলো বাঙালির সেই অবিনাশী স্পর্ধা যা জীর্ণতাকে পুড়িয়ে ছাই করে নতুনের বিজয়তিলক পরে ফিরে আসে।

এটি শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়, বরং বাঙালির জীবনে ঐতিহ্যের এক মহা-উন্মেষ। বৈশাখ আসলেই বাঙালির হৃদয়ে নতুনের জয়গান বেজে ওঠে।

বৈশাখের শুরুতে যখন ধূলির মিছিল আর কালবৈশাখীর গর্জনে আকাশ কাঁপে, তখন বাংলার বুকে ফিরে আসে পুনর্জন্মের বার্তা। বছরের অন্য দিনে আমরা নাগরিক জীবনের যান্ত্রিক চাদরে ঢাকা থাকলেও, বৈশাখের প্রথম সূর্য আমাদের শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। রাস্তার পিচ ঢালা কালো বুক আজ সেজেছে রঙের কারুকাজে, আর আল্পনার প্রতিটি বাঁক যেন একেকটি না বলা গল্প।

চারুকলা অনুষদের সামনের মঙ্গল শোভাযাত্রা যখন এগোয়, তখন মনে হয় এক বিশাল জাদুর আয়না আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। বিশালকায় সব টেপা পুতুল আর মাটির সরাগুলো যেন চিৎকার করে বলছে, ‘আমরা হারিনি, আমরা হারবো না।’

এটি এক নান্দনিক বিদ্রোহ, যেখানে হাজার হাজার মানুষ এক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুর মেলায় এবং এই মুহূর্তে বাঙালির কোনো ধর্ম বা গোত্র থাকে না, শুধু এক অখণ্ড পরিচয় থাকে- আমরা বাঙালি।

বৈশাখে, শহরের কৃত্রিম আলো আর শপিং মলের চকচকে উজ্জ্বলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে, রাজত্ব করে মেঠো সুর আর মাটির ঘ্রাণ। মেলায় নাগরদোলার শব্দ যেন আমাদের এক অতীতের কাহিনী শোনায়, যেখানে বাতাসা আর কদমার স্বাদ মিশে থাকত মাটির সোঁদা গন্ধে।

বৈশাখ আমাদের শেখায়- আভিজাত্য শুধু দামী পোশাকে নয়, বরং সাদা সুতি শাড়ির লাল পাড় আর কপালে আঁকা ছোট্ট টিপেও তা লুকিয়ে থাকে। এ সময় আধুনিকতা আর ঐতিহ্য একসাথে হাঁটে।

যখন একজন কিশোরী এক হাতে স্মার্টফোন আর অন্য হাতে মাটির সরা নিয়ে হাঁটে, তখন বোঝা যায় আমাদের সংস্কৃতি কতটা শেকড়মুখী এবং কতটা গভীরে আমাদের ঐতিহ্যের শিকড় প্রসারিত।

বৈশাখ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা শুধুমাত্র একটি জাতিই না, বরং আমরা এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা বয়ে চলে মাটির ঘ্রাণে, মঙ্গল শোভাযাত্রার সুরে এবং লাল-সাদা ঐতিহ্যে।

This post was viewed: 7

আরো পড়ুন